২০২৬ সালে ইউরোপের দেশগুলোয় প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার ২০২৫ সালের তুলনায় কিছুটা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মজুরি বৃদ্ধিতে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও বড় অর্থনীতির মধ্যে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকবে যুক্তরাজ্য। ফলে ইউরোপজুড়ে আয় বাড়ার ধারা থাকলেও সে সুফল সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর ইউরোনিউজ।
ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইউরোজোনে প্রকৃত মজুরি বড় চাপের মুখে পড়ে। তবে সে ধাক্কার বেশির ভাগই এখন কাটিয়ে উঠেছে অঞ্চলটি। সাম্প্রতিক সময়ে নামমাত্র মজুরি ভোক্তা দামের বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়ায় ২০২৫ সালের শুরুতে প্রকৃত মজুরি প্রায় ২০২১ সালের শেষের স্তরে ফিরে এসেছে। অর্থাৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কার আগে ২০২১ সালের শেষ দিকে যে স্তরে মানুষের প্রকৃত আয় ছিল, ইউরোজোনে তা আবার প্রায় সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক মজুরি বাড়ায় ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে আগের অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে ২০২৫ সালের দেশভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মজুরির তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। তাই বিভিন্ন জরিপ ও পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ইউরোপের মজুরি প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবসম্পদ ও বেতন-ভাতা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট কন্ডিশনস অ্যাব্রডের (ইসিএ) ২০২৫-২৬ সালের স্যালারি ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ২৩টিতেই প্রকৃত মজুরি বেড়েছে। অস্ট্রিয়ায় প্রকৃত মজুরি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। তুরস্কে এ হার ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তুরস্কে ২০২৫ সালে নামমাত্র মজুরি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। একই সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব হিসাব করার পর তুরস্কে প্রকৃত মজুরি তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।
২০২৬ সালেও তুরস্কেই প্রকৃত মজুরি বাড়ার হার সবচেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে ইসিএ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর তুরস্কে প্রকৃত মজুরি ৮ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ইসিএর পণ্য বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান স্টিভেন কিলফেডার বলেন, ‘তুরস্কে মজুরি ও মূল্যস্ফীতি দুটোই অনেক বেশি। তাই প্রকৃত মজুরি বাড়লেও দেশটির মানুষ আগের মতো ক্রয়ক্ষমতায় এখনো পৌঁছতে পারেনি। ২০২২ সালে প্রকৃত মজুরি কমার ধাক্কা ছিল তীব্র। ২০২৪ সালেও সেই চাপ পুরোপুরি কাটেনি।’
অন্যদিকে ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল। ইসিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ২০২৬ সালে প্রকৃত মজুরি বাড়ার হার যুক্তরাজ্যেই সবচেয়ে কম থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যে নামমাত্র মজুরি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তুলনামূলক বাড়তি মূল্যস্ফীতি সে বৃদ্ধির সুফল কমিয়ে দেবে। ফলে প্রকৃত আয়ের উন্নতি সীমিতই থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিকভাবে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো আবার এগিয়ে রয়েছে। হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র ও বুলগেরিয়ার মতো দেশে প্রকৃত মজুরি বাড়ার হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ইসিএ বলছে, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা এ অঞ্চলের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে পশ্চিম ইউরোপে উৎপাদনশীলতা ধীরে বাড়ছে। সরকারি ব্যয়সংকোচন ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেখানে মজুরি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক সীমিত।